Bengali meaning of “Leela’s Friend” by RK Narayan. Class XI, WBCHSE. “Leela’s Friend” – বাংলা মানে।

Bengali meaning of Leela’s Friend by RK Narayan. Very important for class 11 students of West Bengal, WBCHSE. Line by line Bengali meaning of the text Leela’s Friend. A very important piece in English syllabus of class 11. Read regularly and prepare yourself for your class 11 annual examination.

পশ্চিমবঙ্গের একাদশ শ্রেণির ইংরেজি সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত “Leela’s Friend” পিসটির সম্পূর্ণ বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হল:

সিদ্দা ঘোরাফেরা করছিল দরজার কাছে যখন মিস্টার শিব শংকর দাঁড়িয়েছিলেন সামনের দিকের বারান্দায় তার বাড়িতে, গভীরভাবে চিন্তায় মগ্ন ছিলেন চাকরের সমস্যা নিয়ে।

“মহাশয়, আপনার কি চাকরের প্রয়োজন?”সিদ্দা জিজ্ঞাসা করল।

“ভিতরে এসো, “মিস্টার শিবশংকর বললেন। যখন সিদ্দা দরজা খুলল এবং ভেতরে এল, মিস্টার শিবশংকর তাকে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখে নিলেন এবং নিজে নিজেই বললেন, “খারাপ লোক বলে মনে হচ্ছে না…. যাইহোক, লোকটিকে গুছানো বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন লাগছে।”

“তুমি এর আগে কোথায় ছিলে?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

সিদ্দা বলল, “ওখানের বাংলোতে,”এবং অস্পষ্ট একটা জায়গা নির্দেশ করল বা দেখালো, “ডাক্তারের বাড়িতে।”

“তার নাম কি?”

“আমি জানিনা প্রভু,” সিদ্দা বলল। “তিনি বাস করেন বাজারের কাছে।”

“তারা তোমাকে তাড়িয়ে দিল কেন?”

“তারা শহর ছেড়ে চলে গেছে, প্রভু,” সিদ্দা বলল, একটা বাঁধাধরা উত্তর দিয়ে।

মিস্টার শিবশংকর তার মনস্থির করতে পারলেন না।

তিনি তার স্ত্রীকে ডাকলেন।

তিনি (অর্থাৎ তার স্ত্রী) সিদ্দার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “তাকে দেখে অন্যদের চেয়ে খারাপ মনে হচ্ছে না যাদেরকে আমরা পেয়েছিলাম।”

লীলা, তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে, বেরিয়ে এলো, সিদ্দার দিকে তাকালো এবং আনন্দে চিৎকার করে উঠল। “ও: বাবা! সে (অর্থাৎ লীলা) বলল, “আমি তাকে পছন্দ করি (বা আমার তাকে পছন্দ)। ওকে তাড়িয়ে দিও না। আমাদের বাড়িতে তাকে রেখে দেওয়া যাক।” এবং ওটাই (অর্থাৎ লীলার জেদটা) এটা (অর্থাৎ সিদ্দার চাকর হিসেবে থেকে যাওয়াটা) স্থির করল।

সিদ্দাকে দেওয়া হতো দিনে দুবার খাবার এবং মাসে চার টাকা, যার বিনিময় সে কাপড় ধুয়ে দিত, বাগানের পরিচর্যা করত, টুকিটাকি কাজে যেত, কাঠ কাটত এবং লীলাকে দেখাশোনা করত।

“সিদ্দা, এসো এবং খেলো।” লিলা চিৎকার করতো, সিদ্ধাকে ফেলে রেখে যেতে হতো যেকোনো কাজ যা সে করত এবং তার (অর্থাৎ লীলার) কাছে ছুটে যেতে হতো, যখন সে দাঁড়িয়ে থাকতো সামনের বাগানে তার হাতে একটা লাল বল নিয়ে। তার (অর্থাৎ সিদ্দার) সঙ্গ তাকে (অর্থাৎ লীলাকে) ভীষণভাবে খুশি করত। সে (অর্থাৎ লীলা) তার (অর্থাৎ সিদ্দার) দিকে বলটা ছুঁড়ে দিত এবং সে (অর্থাৎ সিদ্ধা) বলটা পাল্টা ছুঁড়ে দিত। এবং তারপর সে (অর্থাৎ লীলা) বলতো, “এখন বলটা আকাশে ছুঁড়ে দাও।” সিদ্দা বলটাকে ধরল, এক সেকেন্ডের জন্য তার চোখ বন্ধ করলো এবং বলটা উপরে ছুড়ে দিল। যখন বলটা আবার নিচে নেমে এলো, সে (অর্থাৎ সিদ্দা) বলল, “এখন এটা (অর্থাৎ বলটা) চাঁদকে স্পর্শ করেছে এবং নেমে এসেছে। তুমি এখানে দেখো চাঁদের সামান্য অংশ লেগে আছে।” লীলা আগ্রহের সঙ্গে পরিক্ষা করে দেখল চাঁদের দাগ দেখার জন্য এবং বলল, “আমি এটা দেখতে পাচ্ছি না।” “তোমাকে এই ব্যাপারে খুব তাড়াতাড়ি দেখতে হবে,” সিদ্দা বলল, “কারণ এটা বাষ্পে পরিণত হবে এবং চাঁদের কাছে ফিরে চলে যাবে। এখন তাড়াতাড়ি করো….” সে শক্ত করে বলটাকে ঢেকে দিল তার আঙ্গুল দিয়ে এবং একটা ছোট্ট ফাঁক দিয়ে তাকে উঁকি দিতে দিল।

“আহ্ হ্যাঁ,” লীলা বললো। “আমি চাঁদ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু চাঁদ কি খুব ভিজে ভিজে?”

“নিশ্চয়ই এটা তাই (অর্থাৎ ভিজে ভিজে),” সিদ্ধা বলল।

“আকাশে কি রয়েছে সিদ্দা?”

“ভগবান”, সে বলল ।

“যদি আমরা ছাদে দাঁড়ায় এবং হাত প্রসারিত করি (বা বাড়াই), আমরা কি আকাশকে স্পর্শ করতে পারব?”

“যদি আমরা এখানে ছাদে দাড়ায় তাহলে (আকাশকে স্পর্শ করতে) পারবো না,” সে (অর্থাৎ সিদ্দা) বলল, “কিন্তু তুমি যদি একটা নারকেল গাছের উপরে দাড়াও, তাহলে আকাশকে স্পর্শ করতে পারবে।”

“তুমি এটা করেছ?” লীলা জিজ্ঞাসা করল।

“হ্যাঁ, অনেকবার,” সিদ্দা বলল। “যখনই আকাশে বড় চাঁদ থাকে, আমি একটা নারকেল গাছে উঠে পড়ি এবং এটাকে (অর্থাৎ চাঁদকে) স্পর্শ করি।”

“চাঁদ কি তোমাকে চেনে?”

“হ্যাঁ, খুব ভালো করেই (চেনে)। এখন আমার সঙ্গে এসো। আমি তোমাকে সুন্দর কিছু দেখাবো।”

তারা গোলাপ গাছের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। সে বলল, আঙ্গুল বাড়িয়ে দেখিয়ে, “তুমি ওখানে চাঁদ দেখতে পাচ্ছ, পাচ্ছ না কি?”

“হ্যাঁ।”

“এখন আমার সঙ্গে এসো,” সে বলল, এবং তাকে পিছনের উঠোনে নিয়ে গেল। সে কুঁয়োর কাছে থামল এবং উপরের দিকে আঙুল দিয়ে দেখালো। চাঁদ ওখানেও আছে। লিলা হাততালি দিল এবং বিষ্ময়ে চিৎকার করে উঠল। “চাঁদ এখানে আছে! এটা ওখানেও ছিল! কেমন করে এটা হয়?”

“আমি এটাকে (অর্থাৎ চাঁদকে) বলেছি আমাদের পিছনে পিছনে যেতে।”

লীলা ছুটে ভেতরে গেল এবং তার মাকে বলল, “সিদ্দা চাঁদকে চেনে।”

গোধূলিবেলায় (অর্থাৎ সন্ধ্যাবেলায়) সে (অর্থাৎ সিদ্দা) তাকে ভিতর নিয়ে এলো এবং সে (অর্থাৎ লীলা) তার একটা ক্লাস নিল। তার (অর্থাৎ লীলার) একটি বাক্স ছিল যেটা ক্যাটালগ (বর্ণমালার বই), ছবিসহ বই এবং খুব ছোট হয়ে যাওয়া পেন্সিলে ভর্তি ছিল। সিদ্দার শিক্ষিকা হওয়াটা তাকে দারুন মজা দিত। সে (অর্থাৎ লীলা) তাকে (অর্থাৎ সিদ্ধাকে ) উবু হয়ে বসাত মেঝের উপর তার আঙ্গুলের মাঝে পেন্সিল দিয়ে এবং তার সামনে একটা ক্যাটালগ দিয়ে। তার ছিল আরেকটি পেন্সিল এবং একটি ক্যাটালগ এবং আদেশ করত, “এখন লেখো।”এবং তাকে চেষ্টা করতে হতো এবং নকল করতে হতো যা কিছু সে লিখে দিত তার ক্যাটালগের পাতায়। বর্ণমালার দুটি অথবা তিনটি অক্ষর সে জানতো এবং এক ধরনের বিড়াল এবং কাকের ছবি আঁকতে পারত। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই সিদ্দা সামান্যতমও নকল করতে পারত না। সে বলতো, তার (অর্থাৎ সিদ্দার) প্রচেষ্টাকে লক্ষ্য করে “এইভাবে কি আমি কাকটা এঁকেছি? এইভাবে কি আমি B টা এঁকেছি?”সে তাকে করুণা করল এবং দ্বিগুণ করে দিল তার প্রচেষ্টা তাকে (অর্থাৎ সিদ্দাকে) শেখানোর জন্য। কিন্তু ওই ভালো লোকটি (এখানে সিদ্দার কথা বলা হয়েছে), যদিও চাঁদকে নিয়ন্ত্রণ করতে দক্ষ, পেন্সিল চালাতে ছিল সম্পূর্ণরূপে অক্ষম। ফলস্বরূপ, যেন লাগছিল (বা মনে হচ্ছিল) লীলার থাকে সেখানেই রেখে দেবে, তার বসার জায়গায় পিন দিয়ে আটকে রাখার মত করে যতক্ষণ না তার শক্ত, অনমনীয় কব্জিতে ব্যথা করে। সে (অর্থাৎ সিদ্দা) মুক্তি চাইত এই বলে, “আমার মনে হয় তোমার মা তোমাকে ভেতরে ডাকছে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য।” লিলা পেন্সিল ফেলে দিত এবং ঘর থেকে ছুটে চলে যেত, এবং বিদ্যালয়ের পর্ব শেষ হয়ে যেত।

রাতের খাবার খাওয়ার পর লীলা তার বিছানায় ছুটে যেত। সিদ্দাকে গল্প নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হতো। সে মেঝের ওপর বিছানার কাছে বসে পড়তো এবং অতুলনীয় গল্প বলতো: জঙ্গলের পশুদের গল্প, স্বর্গের দেবদেবীদের গল্প, জাদুকরদের গল্প যারা যাদু বলে সোনার দুর্গ তৈরি করতে পারত এবং সেগুলি (অর্থাৎ দুর্গগুলি) ভরিয়ে দিতে পারতো ছোট্ট রাজকুমারীদের দিয়ে এবং তাদের পোষ্যদের দিয়ে….

দিনদিন লীলা তার (অর্থাৎ সিদ্দার) আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল। সে (অর্থাৎ লীলা) জেদ করতো তার (অর্থাৎ সিদ্দার) সঙ্গ পাওয়ার জন্য যতক্ষণ সে জেগে থাকতো। সে তার পাশে থাকতো যখন সে বাগানে কাজ করতো অথবা কাঠ কাটত, এবং তার সঙ্গে যেত যখন তাকে (অর্থাৎ সিদ্দাকে) কোনো টুকিটাকি কাজে পাঠানো হতো।

একদিন সন্ধ্যাবেলায় সে চিনি কিনতে বাইরে বেরিয়ে ছিল এবং লীলা তার সঙ্গে গিয়েছিল। যখন তারা বাড়ি এলো, লীলার মা লক্ষ্য করল যে একটা সোনার চেন যেটা লীলা পরেছিল সেটা দেখা যাচ্ছে না (বা পাওয়া যাচ্ছে না)। “তোর চেনটা কোথায়?” লীলা তার জামার দিকে তাকালো, খুঁজলো এবং বলল, “আমি জানিনা।” তার মা তাকে এক চড় মারল এবং বলল, “আমি তোকে এটা (অর্থাৎ চেনটা) খুলে ফেলতে এবং বাক্সে রেখে দিতে কতবার বলেছি?”

“সিদ্দা! সিদ্দা!” সে চিৎকার করলো এক মুহুর্ত পর। যখন সিদ্দা ভিতরে এলো, লীলার মা তার (অর্থাৎ সিদ্দার) দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল এবং ভাবল লোকটিকে ইতিমধ্যেই অদ্ভুত লাগছে। সে (অর্থাৎ লীলার মা) তাকে চেনটার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তার গলা শুকিয়ে গেল। সে চোখ পিটপিট করতে লাগল এবং উত্তর দিল যে সে জানেনা। সে অর্থাৎ লীলার মা পুলিশের কথা উল্লেখ করল এবং চেঁচামেচি করতে লাগলো। তাকে এক মুহূর্তের জন্য রান্না ঘরের ভেতরে যেতে হয়েছিল কারণ সে উনানে কিছু ফেলে রেখে এসেছিল। লীলা তার পিছনে পিছনে গেল, ঘ্যান ঘ্যান করতে করতে, “আমাকে একটু চিনি দাও, মা, আমি ক্ষুধার্ত।” যখন তারা আবার বাইরে বেরিয়ে এলো এবং ডাকলো, “সিদ্দা! সিদ্দা!”, কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। সিদ্দা রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে গেল।

মিস্টার শিবশংকর বাড়ি এলেন এক ঘন্টা পরে, এই সব কিছুতে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন, পুলিশ স্টেশনে গেলেন এবং একটি অভিযোগ দায়ের করলেন।

খাবার খাওয়ার পর লীলা বিছানায় যেতে অস্বীকার করল। “আমি ঘুমাবো না যদি না সিদ্দা আসে এবং আমাকে গল্প বলে। আমি তোমাকে পছন্দ করি না, মা। তুমি সব সময় সিদ্দাকে গালমন্দ করো এবং জ্বালাতন করো। তুমি এত নিষ্ঠুর কেন?”

“কিন্তু সে তোমার চেনটা নিয়ে পালিয়ে গেছে….”

“নিয়ে যাক। এটা কিছু ব্যাপার না। আমাকে গল্প বলো।”

“ঘুমাও, ঘুমাও,” মা বললেন, তার কোলে তাকে (অর্থাৎ লীলাকে) শোয়ানোর চেষ্টা করে।

“আমাকে একটা গল্প বলো, মা,” লীলা বললো। তার মার পক্ষে গল্পের কথা ভাবাটা ছিল সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। তার মনটা ছিল বিপর্যস্ত। সিদ্দার ভাবনা তাকে আতঙ্কিত করেছিল। লোকটি (অর্থাৎ এখানে সিদ্দার কথা বলা হয়েছে), বাড়ির সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞান থাকায়, রাত্রিতে আসতে পারে এবং লুট করে নিতে পারে। সে (অর্থাৎ লীলার মা) কেঁপে উঠলেন এটা ভেবে যে কি ধরনের শয়তানকে তিনি এতদিন ধরে আশ্রয় দিয়েছেন। এটা ভগবানের দয়া যে সে শিশুটিকে মেরে ফেলেনি চেনটি পাওয়ার জন্য। “ঘুমাও, লীলা, ঘুমাও,” তিনি আদর করলেন। “তুমি কি হাতির গল্প বলতে পারো না?” লীলা জিজ্ঞাসা করল।

“না।”

লীলা বিরক্তিসূচক আওয়াজ করল এবং জিজ্ঞাসা করলো, “আমাদের চেয়ারে শিদ্দার বসা চলে না কেন, মা?” মা প্রশ্নের উত্তর দিলেন না। লীলা একমুহূর্ত পরে বলল, “সিদ্দা চলে গেছে কারণ তাকে অনুমতি দেওয়া হয় না ঘরের ভেতরে ঘুমাতে ঠিক যেমন আমরা ঘুমাই। কেন তাকে সবসময় ঘরের বাইরে শুতে হয়, মা? আমার মনে হয় সে আমাদের সঙ্গে রেগে আছে, মা।” ইতিমধ্যেই শিবশঙ্কর ফিরে এলেন, লীলা ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি বললেন, “ওই লোকটিকে কাজে লাগিয়ে আমরা কি ঝুঁকিই না নিয়েছিলাম। মনে হয় সে (অর্থাৎ সিদ্ধা) একজন পুরানো আসামী। সে ছয় বারের মতো জেলে গিয়েছে শিশুদের কাছ থেকে গয়না চুরি করার জন্য। যে বিবরণ আমি দিয়েছিলাম, তার থেকে ইন্সপেক্টর সক্ষম হয়েছিলেন তাকে চিহ্নিত করতে এক মুহূর্তের মধ্যেই।”

“এখন সে কোথায়?” স্ত্রী জিজ্ঞাসা করলেন।

“পুলিশ জানে তার গোপন আস্তানা। তারা খুব শীঘ্রই তাকে তুলে আনবে, চিন্তা করো না। ইন্সপেক্টর রেগে গিয়েছিলেন কারণ আমি তার সাথে পরামর্শ করিনি তাকে (অর্থাৎ সিদ্দাকে) কাজে নিয়োগ করার আগে…”

চারদিন পর, চেক যখন বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এলেন, একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবং একজন কনস্টেবল সিদ্দাকে নিয়ে এলো। সিদ্দা দাঁড়িয়েছিল নতমস্তকে। লীলা ভীষণ আনন্দিত হলো। “সিদ্দা! সিদ্দা!” সে চিৎকার করে উঠল, এবং সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো তার সাথে দেখা করার জন্য।

“ওর কাছে যেও না,” ইন্সপেক্টর বললেন, তাকে থামিয়ে দিয়ে।

“কেন (যাব) না?”

“সে একজন চোর। সে তোমার সোনার চেনটা নিয়ে পালিয়েছে।”

“নিয়ে যাক। আমি একটা নতুন চেন পাবো।” লীলা বললো এবং তাদের সবাই হাসতে লাগলো। এবং তারপর মিস্টার শিবশংকর সিদ্দার সঙ্গে কথা বললেন; এবং তারপর তার স্ত্রী তাকে (সিদ্দাকে) উদ্দেশ্য করে কয়েকটা কথা বললেন তার প্রতারণা নিয়ে। তারপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন কোথায় সেই চেনটা রেখেছে।

“আমি এটা নিইনি,” সিদ্দা দুর্বল ভাবে বলল, মাটির দিকে তাকিয়ে।

“কেন আমার দিকে না বলে পালিয়ে গেলে?” লীলার মা জিজ্ঞাসা করলেন। কোনো উত্তর ছিল না।

লীলার মুখ লাল হয়ে গেল (রাগে)। “ওহ্, পুলিশ, ওকে ছেড়ে দাও। আমি তার সঙ্গে খেলতে চাই।”

“বাছা আমার,” পুলিশ ইন্সপেক্টর বললেন, “সে একজন চোর।”

“হোক গে,” লীলা উত্তর দিল রেগে গিয়ে।

“তুমি কি শয়তান যে এইরকম একটা নিরপরাধ (বা নিষ্পাপ) শিশুর কাছ থেকে জিনিস চুরি করলে!” ইন্সপেক্টর মন্তব্য করলেন। “এমনকি এখনো খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। ওটা (অর্থাৎ চেনটা) ফিরিয়ে দাও। আমি তোমাকে চলে যেতে দেব যদি তুমি শপথ করো আর কখনো এই রকম জিনিস করবে না।” লীলার বাবা এবং মা ও এই আবেদন করলেন। এই পুরো ঘটনাটায় লীলা বিরক্ত হল এবং বলল, “ওকে ছেড়ে দাও, ও চেনটা নেয় নি।” “তুমি আদৌ কোন বিশ্বাসযোগ্য আইনের সাক্ষী নও, বাছা আমার,” ইন্সপেক্টর মজা করে বললেন।

“না, সে এটা নেয় নি!” লীলা চিৎকার করে বলল।

তার বাবা বললেন, “বাছা, যদি তুমি ভালোভাবে আচরণ না করো, আমি তোমার উপর ভীষণ রেগে যাব।”

আধঘন্টা পর, ইন্সপেক্টর কনস্টেবলকে বললেন, “ওকে থানায় নিয়ে চলো। আমার মনে হয় আজ রাতে ওর সাথে আমাকে বসতে হবে।” কনস্টেবল সিদ্দার হাত ধরল এবং যাওয়ার জন্য ঘুরল। লীলা কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিছনে গেল, “ওকে নিয়ে যেও না। ওকে এখানে রেখে যাও, ওকে এখানে রেখে যাও।” সে শক্ত করে সিদ্দার হাত ধরল। সে (অর্থাৎ সিদ্দা) নীরবে তার (লীলার) দিকে তাকালো, একটা পশুর মত। মিস্টার শিবশংকর লীলাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে চলে গেলেন। লীলার চোখে ছিল জল।

প্রতিদিন যখন মিস্টার শিবশংকর বাড়ি আসতেন তার স্ত্রীর দ্বারা তাকে জিজ্ঞাসা করা হতো, “গয়নাটার কোন খবর আছে?” এবং তার মেয়ের দ্বারা জিজ্ঞাসা করা হতো, “সিদ্দা কোথায়?”

“তারা এখনো তাকে লকআপে রেখেছে, যদিও সে ভীষণ জেদি এবং গয়না টি সম্পর্কে কিছুই বলবে না,” মিস্টার শিবশংকর বললেন।

“বাহ্! কি নিষ্ঠুর লোক রে বাবা!” তার স্ত্রী বললেন কম্পিত হয়ে।

“ওহ্, এইসব লোকেরা যারা দু-একবার জেলে গিয়েছে, তাদের কোন ভয় থাকে না। কোন কিছুই তাদেরকে স্বীকার করাতে পারে না।”

কয়েকদিন পর, রান্নাঘরে একটা তেঁতুলের পাত্রে হাত রেখে, লীলার মা চেনটি তুললেন। তিনি এটাকে (অর্থাৎ চেনটাকে) ট্যাপ (বা কলের) কাছে নিয়ে এলেন এবং চেনের উপরে থাকা তেঁতুলের আস্তরণটি ধুয়ে ফেললেন। এটা ছিল নিঃসন্দেহে লীলার চেন। যখন এটা তাকে (লীলাকে) দেখানো হলো, লীলা বললো, “এটা এখানে দাও। আমি চেনটি পরতে চাই।”

“এটা তেঁতুলের পাত্রে গেল কি করে?” মা জিজ্ঞাসা করলেন।

“যেভাবে হোক,” লীলা উত্তর দিল।

“তুমি এটা কি রেখেছিলে?” মা জিজ্ঞাসা করলেন।

“হ্যাঁ।”

“কখন?”

“অনেকদিন আগে, সেই একদিন।”

“কেন তুমি একথা আগে বলনি?”

“আমি জানিনা,” লীলা বলল।

যখন বাবা বাড়ি এলেন এবং বলা হলো, তিনি বললেন, “এরপর থেকে বাচ্চাটি আর কোনো চেন পাবে না। আমি কি তোমাকে বলিনি যে আমি তাকে (অর্থাৎ লীলাকে) দেখেছি দু-একবার এটা হাতে নিয়ে ঘুরতে? কোনো এক সময় সে নিশ্চয়ই ওই পাত্রে এটি ফেলে দিয়েছিল… এবং এই সবকিছু ঝামেলা শুধু তার জন্যই। “সিদ্দার কি হবে?” মা জিজ্ঞাসা করলেন।

“আমি আগামীকাল ইন্সপেক্টরকে বলে দেবো … কিন্তু যাই হোক, আমরা তার মতো একজন অপরাধীকে বাড়িতে রাখতে পারব না।”

মাধ্যমিক একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে নিয়মিত ভিজিট করো আমাদের ওয়েবসাইট onlineexamgroup.com । ইংরেজি সহ অন্যান্য বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি মেটেরিয়ালস পেতে নিয়মিত ভিজিট করো। বিভিন্ন ধরনের স্কলারশপ সংক্রান্ত আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের সঙ্গে থাকো।

Share with your friends

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *